
বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে যাঁরা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের অন্যতম শরীফ মাহমুদ ছিদ্দিকী। তিনি একজন শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানলেখক এবং সংগঠক, যার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে মহাকাশ ও বিজ্ঞানমুখী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
১৯৬৫ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা জীবন শুরু করেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। এরপর ১৯৯৬ সালে হায়াকুতাকা এবং ১৯৯৭ সালে হেল-বপ ধূমকেতুসহ নানা জ্যোতিষ্ক পর্যবেক্ষণে যুক্ত হন। পর্যবেক্ষণভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর এই পথচলা দেশের বিজ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় চিটাগাং ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তিনি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখিতেও তিনি সমানভাবে সমৃদ্ধ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলার আইনস্টাইন অমল কুমার রায়চৌধুরী, বিশ্বনন্দিত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, বাংলার আলোকিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী, মেসিয়ে তারকাপুঞ্জ: আবিষ্কারের ইতিকথা, নক্ষত্র, ধূমকেতু এবং মহাকাশ গবেষণায় মানমন্দির।
নিজের নিরলস কাজ, জ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞানপ্রেম দিয়ে তিনি দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞান আন্দোলনে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
মন্তব্য করুন