নিজস্ব প্রতিবেদক | জামায়াত বার্তা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হামলা ও নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। তবে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা মনজুর আহমেদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “গোয়াল মনজুর” নামে পরিচিত। এছাড়া এখলাছুর রহমান, সাঈদ আহমদ ও ডেভিল রুবেলের ভাই ময়নুলের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চক্রটির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে মারধর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস না পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে হেলাল নামের এক ব্যক্তিকে জনসম্মুখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলায় তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, গতকাল চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসান আহমেদ রাজু নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একাধিক ঘটনার পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন—এটি কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি প্রভাবশালীদের প্রতি কোনো ধরনের প্রশ্রয়?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,
“আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে গোয়াইনঘাটে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন